\

সন্ত্রাস ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স: ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | 519 বার

সন্ত্রাস ও মাদকের ব্যাপারে  জিরো টলারেন্স: ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

সন্ত্রাস ও মাদকের ব্যাপারে
জিরো টলারেন্স: ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস
বাদল নূর
ঢাকা-১০ আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দোহিত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও বেগম সামসুন্নেসা আরজু মনির ছেলে।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দশ আসন থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এর পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ওই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় এই নেতা অত্র এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে তার সমাধান ও সুষম উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন এবং এর ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস এবং মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক সম্পুর্ণভাবে নির্মুল করতে চাই। এখন দেখা যায় মূল জায়গা থেকে মাদক নির্মুল করা সত্বেও কিছু কিছু ঘরে মাদকের আগ্রাশন রয়েছে। তাদের কারণে নতুন প্রজন্ম ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে। আমরা সমূলে ঢাকা দশ আসন থেকে মাদকমুক্ত করতে চাই। এব্যাপারে যতোটা কঠোর হওয়া যায় আমরা হতে প্রস্তুত।
গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকা-১০ আসন প্রসঙ্গে কথা বলেন। এতে উঠে আসে তার নির্বাচনী এলাকার নানান বিষয়। ঢাকা-১০ আসন রাজধানীর দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট অন্তর্গত ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা দশ আসনকে গত দশ বছর ধরে আমরা শিক্ষার এবং শান্তির নীড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প অনুযায়ী প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে চাই। আমাদের এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা যাতেকরে অটুত থাকে সেই ব্যাপারে যেসব কার্যক্রম শুরু করেছি তা অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাজারীবাগ বাসীর সুবিধার জন্য ট্যানারি মালিক, গণপূর্ত এবং শিল্পমন্ত্রানালয়সহ আমরা একটি পরিকল্পনা নিতে চাচ্ছি যাতেকরে হাজারীবাগবাসী একটি আধুনিক নগরায়নের সুবিধা পায় । সে লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিতে চাই। তিনি বলেন, প্রাইম ধানমন্ডিতে যানজটের সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমাদের এলাকার যানজটের যে সমস্য সেটা নিরুপন হবে।
জন্মের মাত্র চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ধানমন্ডির বাড়ীতে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যাকরে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বাবা-মাকে। লন্ডভন্ড শৈশব পেরিয়ে দাদী আর স্বজনদের স্নেহে বড় হন তিনি। দেশে শিক্ষার পাঠ শেষ করে আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য যান যুক্তরাজ্যে। শিক্ষা জীবন শেষ করে মাটির টানে ফিরে আসেন নিজ দেশে। মনোযোগ দেন আইন পেশায়। এর পাশাপাশি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা দশ আসনকে বেছে নেন তিনি। এই মাটিতেই মিশে আসে তার বাবা-মায়ের রক্ত। এই মাটিতেই জন্ম আর বেড়ে ওঠা। স্মৃতির এই জনপদ আর এখানকার মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে শুরু রাজনীতির পথচলা। বাঙালির ভাগ্যাকাশে যখন উকি দিচ্ছিলো স্বাধীনতার সূর্য, ঠিক তখন ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রগন করেন শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন প্রতিটি ঘরে যেন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় আমরা সেই আলোকে চেষ্টা করেছি। আমরা অনেকটা সফল হয়েছে। প্রতিটি ঘরে চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। এটি চলমান থাকবে। এলাকায় কোনো বেকার চাই না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির মূল মন্ত্র বা আদর্শ ছিল বাঙালি জাতিকে অকৃত্তিম ভালো বাসা। বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করে গেছেন জনগণকে ভালোবাসাই তার জন্ম ও রাজনীতির মূল সূত্র। আমরা সেই আদর্শকে ধারন করি। জাতির পিতার অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করতে চাই। দলমত নির্বিশেষে মানুষের কল্যান করতে চাই। ইন্নয়ন করতে চাই। আমি যখন এই প্রথম নির্বাচনে আসি। এই এলাকায়ই আমার বেড়ে ওঠা, এই এলাকায় আমার শৈশব ও কৈশর কেটেছে। এলাকার জনগণ আমাকে সন্তান-ভাই আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের মহানুভবতা , তারা যে আমাকে ভালো বেসেছে , তা শোধ করা সম্ভব না। তবে আমি চেষ্টা করেছি তাদের সঙ্গে থেকে পাশে থেকে তাদের এই ভালো বাসার মর্যাদা দেয়া। তাদের ভালোবাসার যেন অমর্যাদা অসম্মান না হয়। সেটুকু চেষ্টা করছি করে যাবো। নাগরিক সুবিধা যেন পায়, তারা যেন নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে। ঢাকা-১০ আসনের মানুষ যেন মর্যার সঙ্গে বাচতে পারে সেই দায়িত্ব আমি পালন করতে চাই। আমার চেস্টা থাকবে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ যেন আধুনিক নগরায়নের সুযোগ-সুবিধা পায়। ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে চাই। জনগনের প্রতি আমার আহবান থাকবে এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে তাদের আপনজন হিসেবে গ্রহন করেছে। যেভাবে ভালো বেসেছে, আমার ওপর তাদের আস্থা রেখেছে দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নমুলক কাজে সহায়তা করেছে সেটা অটুট থাকে সেটা তাদের কাছে প্রত্যাশা করবো। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করি না। রাজনীতি প্রতিহিংশার বিষয় নয়, জণগণের কল্যানের কাজ করে যাওয়ার বিষয়। মারামারি হানাহারির প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। আমি সেটা করে যাবো। আমরা প্রতিযোগীতামুলক গ্রহনযোগ্য নির্বাচন চাই।
ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দশ আসনে সংস্কারসহ একে একে গড়ে তুলেছেন শেখ রাসেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারি মহাবিদ্যালয়, শহীদ সামসুন্নেসা আরজু মনি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র, সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজারীবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়, খান হাসান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, শহীদ বুদ্ধিজীবী আমিন উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয়, লেকসার্কাস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন, নিউ মডেল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, ফায়ার স্টেশন, ডোম সম্প্রদায়ের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, পানির পাম্প, জলাবদ্ধতা দূরিকরন, মন্দির, শেখ রাসেল শিশুতোষ পার্ক, তাকওয়া মসজিদের উন্নয়ন, ধানমন্ডি লেক সংস্কার, ধানমন্ডি থানা নির্মাণ, কাঠালবাগানে পানির পাম্প নির্মাণ, শ্রক্রাবাদ ও সোবহানবাগ এলাকায় ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ, মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন স্থাপন, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন জনপ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com