\

একদিকে সংলাপ অন্যদিকে আন্দোলন বোধগম্য নয়

রবিবার, ০৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ | 363 বার

একদিকে সংলাপ অন্যদিকে আন্দোলন বোধগম্য নয়

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আলোচনায় বসার পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সংলাপে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আলোচনা চলছে, তখন আবার দেখলাম আন্দোলনের কর্মসূচিও তারা দেয়। একদিকে আলোচনা করবে, আরেকদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া— এটা কী ধরনের সংলাপ? তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। জানি না দেশবাসী এটা কীভাবে নেবে? তবে আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। গতকাল বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংলাপে বসেছি। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক, দেশের মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দিতে পারুক। তারা তাদের পছন্দের সরকার বেছে নিক। সে কারণেই আমি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমি কিন্তু একটা কথাও বলিনি প্রথমে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের কথা শুনেছি। শেষে আমি কথা বলেছি। সেখানেও বলেছি, কোনটা কোনটা আমরা করতে পারি, কোনটা রাষ্ট্রপতির, কোনটা নির্বাচন কমিশনের, কোনটা কীভাবে করা যায়— এসব নিয়ে বলেছি। তারা যেসব দাবি-দাওয়া দিয়েছে, আমাদের পক্ষে যা মানা সম্ভব তা মানব। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত। সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলীয় সভানেত্রী হিসেবে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। বনানীতে কবরস্থানে জাতীয় নেতা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং রাজশাহীতে আরেক জাতীয় নেতা এ এইচ এম কামারুজ্জামানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। সারা দেশে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে জেলহত্যা দিবসটি পালন করা হয়।

আপনজনদের মামলায় খালেদার সাজা : সভায় রাজনৈতিক কারণে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বা আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংলাপে বিভিন্ন আলোচনার মাঝে রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়। তবে কাউকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করা হয়নি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাদের আপনজনরাই মামলা করেছে। তাদের বানানো রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন, তাদেরই বানানো সেনাপ্রধান মইন উদ্দীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফখরুদ্দীনরাই এ মামলা করেছেন। তারা সবাই ছিলেন বিএনপিরই তৈরি। তারা ক্ষমতায় বসে মামলা দিয়েছেন। তাদের (বিএনপি) উপদেষ্টা মইনুল হোসেনই মামলাটা তৈরি করে দিয়েছেন। এসব মামলায় ক্ষমতাসীন সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি থাকলে একটা মামলা শেষ করতে ১০ বছর সময় লাগার কথা নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১০ বছর ধরে মামলা চলার পরে রায় হয়েছে, সেই মামলায় সাজা হয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে  আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে— এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার, ইউপি নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে যা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। এ নির্বাচন কমিশন দেশে অনেক সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছে। কাজেই এ কমিশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। তারা প্রতিটি নির্বাচন স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছেন। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

খুনিদের পুরস্কৃত করেছে বিএনপি  খুনিদের বিচার না করে তাদের পুরস্কৃত করেছে বিএনপি’— এমন অভিযোগ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিজয়ের চিহ্নকে মুছে ফেলতে যারা কাজ করেছে, তাদের পুনর্বাসন করেছে বিএনপি। তারা জাতির পিতাকে খুন করেছে, জেলে বন্দী চার জাতীয় নেতাকে খুন করেছে। আইনের তোয়াক্কা না করে খুনিদের পুনর্বাসিত করা হয়েছে। খুন করার যোগ্যতাবলে তাদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ও ৩ নভেম্বরের খুনিদের বিচার করার লক্ষ্য ছিল। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে কাজ করেছি, তাদের বিচার করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সৃষ্টি করি, ওরা (বিএনপি-জামায়াত) ধ্বংস করে। তাদের তাণ্ডব থেকে ছোট্ট শিশুও রক্ষা পায়নি। মানুষ পোড়ানোর পাশাপাশি বাড়িঘর জ্বালানোসহ নানা তাণ্ডব চালিয়েছে দেশজুড়ে। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে তারা আনন্দ করেছে। এভাবে তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com